চুরির দায়ে এবং পুরানো ওয়ারেন্টের কারণে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ
বরিশালে হানি ট্র্যাপে ফেলে মোবাইল চোরকে যেভাবে আটক করল পুলিশ
মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশালের জাহিদুর রহমান, ভেবেছিলেন মাসখানেক আগে মোবাইল চুরি করে পার পেয়ে গেছেন। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না তার। ভুক্তভোগীর পাতা ‘প্রেমের ফাঁদে’ পা দিয়ে সোজা শ্রীঘরে যেতে হলো তাকে। ঘটনাটি সিনেমার মতো শোনালেও বাস্তবে ঘটেছে বৃহস্পতিবার (ফেব্রুয়ারি ৫) সকালে বরিশাল নগরীর সিটি মার্কেট এলাকায়। ঘটনার সূত্রপাত এক মাস আগে। বরিশালের বাবুগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুলের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। চুরির অভিযোগ ওঠে একই উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের জাকির হোসেনের ছেলে জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে। মোবাইল খোয়ানোর পর সাইদুল পুলিশের ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে নিজেই গোয়েন্দাগিরি শুরু করেন। সাইদুল জানান, তিনি কৌশলে অভিযুক্ত জাহিদুরের ফেসবুক আইডি খুঁজে বের করেন। এরপর নিজের এক বান্ধবীর মাধ্যমে জাহিদুরকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। শুরু হয় চ্যাটিং। একপর্যায়ে ওই বান্ধবী জাহিদুরকে প্রেমের অভিনয়ে ভুলিয়ে দেখা করার প্রস্তাব দেন। ‘ভার্চুয়াল প্রেমিকা’র ডাকে সাড়া দিতে বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সিটি মার্কেট এলাকায় হাজির হন জাহিদুর। কিন্তু সেখানে প্রেমিকার বদলে তার জন্য অপেক্ষা করছিল পুলিশ ও ভুক্তভোগী সাইদুলের লোকজন। ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই পুলিশের টহল দল তাকে আটক করে। রোমান্টিক সাক্ষাতের স্বপ্ন মুহূর্তেই মিলিয়ে যায় হাজতবাসের বাস্তবতায়। আটকের পর বেরিয়ে আসে জাহিদুরের সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি কেবল মোবাইল চোরই নন, নিজ পরিবারের কাছেও এক আতঙ্কের নাম। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, জাহিদুর রহমান একজন পেশাদার অপরাধী। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে খোদ তার জন্মদাতা পিতা তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। সেই মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাকে খুঁজছিল। ওসি আরও জানান, চুরির দায়ে এবং পুরানো ওয়ারেন্টের কারণে জাহিদুরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।