Current Bangladesh Time
রবিবার অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Latest News
প্রচ্ছদ  » স্লাইডার নিউজ » বরিশালে কালিবাড়ী রোডে অবস্থিত শহীদ মিনারটির বেহাল অবস্থা! 
Monday December 9, 2019 , 9:10 pm
Print this E-mail this

বরিশালে কালিবাড়ী রোডে অবস্থিত শহীদ মিনারটির বেহাল অবস্থা!


মাসুদ রানা :  বরিশাল নগরীর কালিবাড়ী রোডে জগদীশ সারস্বত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত অন্যতম প্রাচীন শহীদ মিনারটির এখন বেহাল অবস্থা। চারিদিকে নোংরা পরিবেশে শহীদ মিনারের মর্যাদা ক্ষুন্ন হলেও দেখার কেউ নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহীদ মিনারটির চারিদিকে রং উঠে গেছে, চারিদিকে পোস্টার লাগানো। ভাষার মাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সহ বিভিন্ন শহীদ মিনার ঘিরে নানা আয়োজন থাকলেও এই শহীদ মিনারটি নিয়ে যেন কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই এর ফলে অনন্য সুন্দর ব্যতিক্রমী ডিজাইনের এই শহীদ মিনারটি দৃষ্টিকটু হিসেবে পড়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে, সাংবাদিক ও উদয়নী ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাতের উদ্যোগে রানী ভট্টাচার্য, বদিউর রহমান, মানবেন্দ্র বটব্যাল, কবি মাসুদ আহম্মেদ, নওসের প্রমুখের সহযোগিতায় এখানে এই ব্যাতিক্রমী শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। এই প্রাচীন শহীদ মিনারটির নক্সাকার ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর্য শিল্পী চিত্ত হালদার। পূর্বে এই স্থানে গুরুনাথ সেনের সমাধি মন্দির থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি সেনারা তা গুড়িয়ে দেয়। ফলে এই জায়গাটা ফাঁকা হয়ে পড়ে। শহীদ মিনারের পাশেই ছিল তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিষ্ট পার্টির অফিস। ফলে এখানে শহীদ মিনার নির্মিত হলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে এই ধারনা থেকেই এখানে এই শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছিল। এদিকে শহীদ মিনারের নক্সাকার শিল্পী চিত্তহালদারের উত্তরসুরী ভায়লেট হালদার এই শহীদ মিনারটি রক্ষায় মেয়র সহ সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, এই শহীদ মিনারটি আমাদের বরিশালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে। বরিশালে প্রথম শহীদ মিনারটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়েছে বহুদিন আগেই। আসুন, আমরা সকলে মিলে আমাদের বরিশালের গৌরবময় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় যত্নবান হই। বাঙলা ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, লড়াই করেছেন সেইসব বীর সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তিনি আরও বলেন, শহীদ মিনারটির যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হলে বরিশালের অন্যতম প্রাচীন শহীদ মিনারটি রক্ষা পাবে। তিনি দাবী করে বলেন, শহীদ মিনারটির নক্সাকার হিসেবে দেয়ালে গাঁথা একটি নামফলকে চিত্ত হালদারের নাম, নির্মাণের সময়কাল ও নির্মাণের প্রেক্ষাপট নিয়ে কয়েকটি লাইন লেখার উদ্যোগ নেয়া হোক। ইতিহাস জানুক নতুন প্রজন্ম। এ শহীদ মিনারটির গুরুত্ব ও তাৎপর্যের নিরিখে অনতি বিলম্বে যথাযথ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।উল্লেখ্য, বর্তমানে জীবনানন্দ সড়কের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের সংলগ্ন স্থানেমোশারফ হোসেন নান্নু, মানবেন্দ্র বটব্যাল সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যাক্তি একটি শহীদ মিনার নির্মান করেছিলেন। এই শহীদ মিনারে অস্তিত্ব ৯০ এর দশক পর্যন্ত ছিল। পরে মাঝারি শহর উন্নয়ন প্রকল্পে পাকা ড্রেন নির্মিত হলে এই শহীদ মিনারটি ধ্বংস হয়ে যায়। এর আগে অবশ্য ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী অশ্বিনী কুমার হলের সামনে চায়ের বাক্স ও সাদা-কালো কাপর দিয়ে প্রথম শহীদ মিনার নির্মান করে জনতা শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। পাকিস্তান আমলেও এই ব্যবস্থা চলতে থাকে। ১৯৮০ এর দশকে তৎতালীন এডিসি সাইফুদ্দিন সহ বরিশালের সংস্কৃতি জনদের উদ্যোগে মোহামেডান ক্লাবের সংলগ্ন স্থানে ঢাকায় নির্মিত শহীদ মিনারে আদলে বরিশাল কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার নির্মিত হয়। এই শহীদ মিনার কমিটির আহবায়ক ছিলেন ভাষাসৈনিক হোসেন আলী, সদস্য ছিল ১০১ জন।

ছবি : এন আমিন রাসেল

সূত্র : বিডি বুলেটিন




Archives

Image
নাজমুল হত্যার বিচার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ
Image
আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
Image
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিরসনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
Image
বরিশালে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
Image
মাদক-জুয়া বন্ধের ঘোষণা দেওয়া বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার