মুক্তখবর ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণাঞ্চলের মিডিয়া জগতের অভিভাবক, সাংবাদিকদের বাতিঘর এবং দেশের শীর্ষ আঞ্চলিক দৈনিক দৈনিক আজকের বার্তা-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কাজী নাসির উদ্দিন বাবুলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৪ সালের ২ মার্চ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারডেম)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৫২ সালের ২ মে বরিশালের কাশীপুর কলাডেমা এলাকার সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে তাঁর জন্ম। ছাত্রাবস্থা থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সাংবাদিকতায় তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় খবর গ্রুপ পাবলিকেশনস-এর বরিশাল ব্যুরো চিফ হিসেবে। আধুনিক সাংবাদিকতার কারিগর হিসেবে পরিচিত কাজী বাবুল বরিশালের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ছিলেন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রতীক। সততা ও সমাজসেবায় তিনি ছিলেন অনুকরণীয় এক নাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে ১৯৯১ সালে তিনি প্রকাশনা শুরু করেন দৈনিক আজকের বার্তা। সময়ের পরিক্রমায় এটি দেশের অন্যতম সর্বাধিক প্রচারিত আঞ্চলিক রঙিন দৈনিকে পরিণত হয়। তিনি ঐতিহ্যবাহী বরিশাল প্রেসক্লাব-এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ১৪ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষা ও বরিশালের উন্নয়নে তিনি ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠ। মঈন-ফখরুদ্দীনের শাসনামলে মিথ্যা মামলায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে সাদা পোশাকে একটি সংস্থার লোকজন তাঁকে পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে আটক করে নিয়ে যায়। অন্ধকার টর্চার সেলে (আয়নাঘর) রেখে তাঁর ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনকারীরা তাঁকে বিএনপির কর্ণধার ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর বিরুদ্ধে সাজানো মামলার বাদী হতে চাপ প্রয়োগ করে। প্রলোভন দেখানো হয়, ভয় দেখানো হয়। কিন্তু তিনি প্রস্তাবে রাজি হননি। অমানবিক নির্যাতনের পরও তিনি মিথ্যা মামলার বাদী হননি। বরং নিজেই মিথ্যা মামলায় ১৭ বছরের সাজা মাথা পেতে নেন। ঢাকা কারাগারে মাসের পর মাস নির্যাতনের ফলে তাঁর দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। তবুও তিনি আপসহীন ছিলেন—নিজের বিবেক ও আদর্শকে আমৃত্যু অটুট রেখেছেন।সাংবাদিক হিসেবে তিনি বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং অর্জন করেছেন অসংখ্য সম্মাননা। কর্মজীবনে একাধিক বই রচনা করেছেন, যার মধ্যে ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কঠোর শ্রম, সূক্ষ্ম মেধা ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কাজী বাবুলের জীবন যেন হাজার পাতার এক দুর্লভ উপন্যাস। আত্মা তাঁর দেহ ত্যাগ করলেও কর্ম তাঁকে দিয়েছে অমরত্ব। মানুষের হৃদয়ে আজও তাঁর স্মৃতি অম্লান। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি চিরকালই থাকবেন আকাশের ধ্রুবতারার মতো স্নিগ্ধ ও পথপ্রদর্শক হয়ে।